পদ্মর বাবা পাশ্চাত্য মতে বৃশ্চিক, আদতে জন্ম কুম্ভ লগ্নে। পদ্মর মা পাশ্চাত্য মতে ধনু, আদতে বৃশ্চিক। সবারই জন্ম নভেম্বরে। উত্তরায় থাকতে এক বিল্ডিঙে ছিলো ৫ জন্মদিন, আরেক বিল্ডিঙে ছিলো ৩ জন্মদিন। আমাদের তাই একটা র্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট জন্মদিন কিট থাকতো সবসময়ে রেডি - মোমবাতি, বেলুন, হ্যাপি বার্থডে লেখা, ফোম, কনফেটি, ফ্লেয়ার ক্যান্ডল...।
জন্মের চার মাস আগে থেকে নাম খুঁজতে লেগে গেছি, জন্মের চার মাস পরে পর্ন্ত নাম খুঁজে গেছি। হাজার হাজার নাম দেখেছি, যত ভাষায় সম্ভব। আমার প্রথম পছন্দ ছিলো কিসিমা হেফজিবা।সোয়াহিলি ভাষায় কিসিমা মানে কল্যাণী, হিব্রু ভাষায় হেফজিবা মানে দেবানন্দা। শেষটায় নাম দাঁড়ালো পদ্মপাণি। বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বর যখন নারীরূপ ধরেন তখন তার নাম পদ্মপাণি, চীনা মতে কুয়ান-ইন, করুণার দেবী, যিনি সব মানুষের কান্না শুনতে পান। তিব্বতী তন্ত্রে পদ্মপাণির বিরাট ভূমিকা।
দু’ভাগে নাম না হলে দলিলপত্রে ভারী অসুবিধা। তাই পদ্মপাণির আগে জুড়ে দিলাম কৃত্তিকা, ঠেকায় পড়ে। কার্তি্ক মাসে জন্ম বলে এই ব্যবস্থা। আমারো কার্তি্ক, পদ্মর মা অঘ্রান। পদ্ম অবশ্য প্রথম যে নামে সাড়া দিতো সেটা “ছোট”। এক বছরের একটু বেশি বয়সে পদ্মর মা “বাবা কি ডাকে?” জিজ্ঞেস করলেই পদ্ম মুখ গোল করে বলতো “সোওওতো”।