পদ্মকথা

এই পোস্টটা লিখেছিলাম যখন পদ্মর তখন ২০ মাস বয়স। অনেক পুটুর পুটুর কথা শিখেছে।

একদিন দরজায়...
:ঠকঠক
:কে এখানে?
:বেবি বেইইইবি
:কার বেবি?
:দীপা। দীপা-মার বেবি।

আরেকদিন বারান্দায়...
:নানা, নানা।
:নানা অপিসে।
:বাবা, বাবা।
:বাবা অপিসে।
:নিন্না, নিন্না।
:নিন্না বাজারে।
:ওহ। সবাই নাই।

আরেকদিন জানালায়...
:আকাশে আকাশে
:আকাশে কি মা?
:পাখি
:পাখি কি করে মা?
:উড়ে উড়ে

অন্য আরেকদিন পর্দার পেছনে...
:পদ্ম কোথায়? কোথায় রে?
:পদ্ম নাই নাই।
:এইটা কার পা দেখা যায় রে?:
মাকাশসা (i.e. মাকড়সা):এইটা আবার কিরকম পা?:শিকন শিকন (i.e. চিকন চিকন) পা।

আরো একদিন, ডাইনিং স্পেসে...
:দেয়ালে এইগুলি কি মা?
:ফাইভ, সেপেন, নাইন, টু...
:কি করেছো?
:আঁকি আঁকি
:কে এঁকেছে?
:মাও বিড়াল
:মাও বিড়াল কোথায়?
:এই যে এখেনে (দেখিয়ে দিলো নিজেকে)

অন্য একদিন, রান্নাঘরে...
:এইটা দাও। দাও দাও।
:কেন?
:এইটা নেবে। নেবে নেবে।
:কি করবি এইটা দিয়ে মা?
:কাটি কাটি।
:কি কাটবি?
:টুক্কা টুক্কা (i.e. টুকরা টুকরা)
:কি টুকরা টুকরা?
:বড় ছোট। টুক্কা টুক্কা।

তারপর পদ্ম শিখলো লম্বা লম্বা বাক্য তৈরি করা...
“চুল টেনে ঠিক করে দাও।”
মানে চুল বেঁধে দাও।

“মাছি ঘুরে। দেখতে পাইনা।”
মাছি মারার ব্যর্থ  চেষ্টার সাথে।

“মাকাশসার পাছায় কামড়ে দাও।”
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে।

“মা দুধ বানায় নাই।”
যখন ওর মা সকালেই দিলো তুলসী পাতা আর থানকুনির রস।

টেলিফোনে মাকড়সার সাথে কথা...
:অ্যাই মাকশসা, হ্যালো (একটু থেমে, যেন অন্যপাশের কথা শুনছে)
:শোনো (আবার একটু থেমে)
: (মহা আমন্ত্রণের সুরে) বাসায় আসো

পুতুলের যত্ন...
:বালিশ (বালিশ তুলে নিয়ে পুতুলকে তার ওপরে শোয়ালো)
:থাকো থাকো (পুতুলকে প্যাট করে)
এবার পদ্ম একটা টুল নিয়ে তার ওপর উঠে কম্পিউটারের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করে, যাতে স্মার্ফসের একটা এপিসোড চালাতে পারে, কিন্তু পেরে ওঠে না।
:কি দেখাই! (মহাচিন্তিত ভাবে মাথা চুলকায়)
ঘরের আরেকপাশে গিয়ে একটা বই নিয়ে আসে।
:দেখো (পুতুলকে বই খুলে দেখায়)
তারপর পুতুলকে বই পড়ে শোনায়, মানে পাতা উল্টে উল্টে ছবি দেখিয়ে হিজিবিজি কথা।

পদ্মপাণির চিড়িয়াখানা:
গরু=গরু হাম্বা
বিড়াল=মাও বিড়াল
মুরগী=মুরগী কককক
হাঁস=ডাকি প্যাঁকপ্যাঁক